ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

হিন্দু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ ছাত্রলীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে, সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৩৮:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ ৮৭ বার পড়া হয়েছে

ঝালকাঠির রাজাপুরে এক হিন্দু পরিবারের জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রীলীগের উপ-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক মোসা. রিয়া আকতারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজাপুর উপজেলার রয়েল ক্যাফেতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী অমূল্য চন্দ্র হালদারের মেয়ে অনামিকা হালদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জমির মালিক অমূল্য চন্দ্র হালদার, তার স্ত্রী রিনা হালদার, ছেলে রাজিব হালদার, মেয়ে অনামিকা হালদার ও সমীর চন্দ্র মালাকার।

লিখিত বক্তব্যে অনামিকা হালদার বলেন, ২০২২ সালে তারা ৪৭ নম্বর রাজাপুর মৌজার ৫ দশমিক ১১ শতাংশ জমি বড়ইয়া ইউনিয়নের উত্তমপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে মোসা. রিয়া আকতারের কাছে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। একই মৌজার আরও ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি রাজাপুর সদর ইউনিয়নের আঙ্গারিয়া গ্রামের অধীর মালাকারের ছেলে সমীর চন্দ্র মালাকারের কাছে ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

তাদের দাবি, জমি বিক্রির পর একাধিকবার মাপজোক করে ক্রেতাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং তারা দীর্ঘদিন সঠিক মাপ অনুযায়ী জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে ২০২৪ সালের শেষের দিকে মোসা. রিয়া আকতার বিক্রিকৃত ৫ দশমিক ১১ শতাংশ জমির পরিবর্তে ৬ দশমিক ১১ শতাংশ জমি রেকর্ড করে নেন। এ ঘটনায় বরিশাল আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রিয়া আকতার ও তার স্বামী মো. রফিক হাওলাদার উপজেলা পরিষদে চাকুরী করে যার জন্য ক্ষমতার শক্তিতে স্থানীয় লোকজন নিয়ে গত ২৮ জুন রবিবার সকালে তাদের জমির সীমানা বেড়া ও টিন ভেঙে জোরপূর্বক দখল করে নেন। এ সময় তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।

অমূল্য হালদার বলেন, ঘটনার সময় রাজাপুর থানায় ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দখল কার্যক্রমে বাধা দেয়। তবে এখন পর্যন্ত তারা কোনো প্রতিকার পাননি। বরং অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে বলেন, “আমরা হিন্দুধর্মাবলম্বী হওয়ায় আমাদের দুর্বল মনে করে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা আমাদের জমি ফেরত চাই এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোসা. রিয়া আকতার জমি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার কাছে জমি বিক্রি করে মাপজোক দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বলে আমাকে মেপে নিতে পরে আমি আমিন দ্বারা মাপজোক দিয়ে সীমানায় পিলার বসিয়েছি। সংবাদ সম্মেলনে তারা আমার বিরুদ্ধ যা বলছে সব মিথ্যা।

এবিষয়ে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন বিশ্বাস বলেন, ঘটনা আমার জানা নেই তবে খোঁজ নিয়ে দেখতাছি। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হিন্দু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ ছাত্রলীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে, সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

আপডেট সময় : ১১:৩৮:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ঝালকাঠির রাজাপুরে এক হিন্দু পরিবারের জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রীলীগের উপ-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক মোসা. রিয়া আকতারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজাপুর উপজেলার রয়েল ক্যাফেতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী অমূল্য চন্দ্র হালদারের মেয়ে অনামিকা হালদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জমির মালিক অমূল্য চন্দ্র হালদার, তার স্ত্রী রিনা হালদার, ছেলে রাজিব হালদার, মেয়ে অনামিকা হালদার ও সমীর চন্দ্র মালাকার।

লিখিত বক্তব্যে অনামিকা হালদার বলেন, ২০২২ সালে তারা ৪৭ নম্বর রাজাপুর মৌজার ৫ দশমিক ১১ শতাংশ জমি বড়ইয়া ইউনিয়নের উত্তমপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে মোসা. রিয়া আকতারের কাছে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। একই মৌজার আরও ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি রাজাপুর সদর ইউনিয়নের আঙ্গারিয়া গ্রামের অধীর মালাকারের ছেলে সমীর চন্দ্র মালাকারের কাছে ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

তাদের দাবি, জমি বিক্রির পর একাধিকবার মাপজোক করে ক্রেতাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং তারা দীর্ঘদিন সঠিক মাপ অনুযায়ী জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে ২০২৪ সালের শেষের দিকে মোসা. রিয়া আকতার বিক্রিকৃত ৫ দশমিক ১১ শতাংশ জমির পরিবর্তে ৬ দশমিক ১১ শতাংশ জমি রেকর্ড করে নেন। এ ঘটনায় বরিশাল আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রিয়া আকতার ও তার স্বামী মো. রফিক হাওলাদার উপজেলা পরিষদে চাকুরী করে যার জন্য ক্ষমতার শক্তিতে স্থানীয় লোকজন নিয়ে গত ২৮ জুন রবিবার সকালে তাদের জমির সীমানা বেড়া ও টিন ভেঙে জোরপূর্বক দখল করে নেন। এ সময় তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।

অমূল্য হালদার বলেন, ঘটনার সময় রাজাপুর থানায় ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দখল কার্যক্রমে বাধা দেয়। তবে এখন পর্যন্ত তারা কোনো প্রতিকার পাননি। বরং অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে বলেন, “আমরা হিন্দুধর্মাবলম্বী হওয়ায় আমাদের দুর্বল মনে করে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা আমাদের জমি ফেরত চাই এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোসা. রিয়া আকতার জমি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার কাছে জমি বিক্রি করে মাপজোক দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বলে আমাকে মেপে নিতে পরে আমি আমিন দ্বারা মাপজোক দিয়ে সীমানায় পিলার বসিয়েছি। সংবাদ সম্মেলনে তারা আমার বিরুদ্ধ যা বলছে সব মিথ্যা।

এবিষয়ে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন বিশ্বাস বলেন, ঘটনা আমার জানা নেই তবে খোঁজ নিয়ে দেখতাছি। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।