ঢাকা ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাবনায় হাঁটের ইজারা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ নওগাঁর মান্দায় সড়ক উন্নয়ন কাজে বাধা’ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে সমাধান সরকারি জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ’ রাস্তাবিহীন মানবেতর জীবনযাপন ঈশ্বরদীতে মুলাডুলি প্রিমিয়ার লীগ সিজন-৩ এর খেলোয়াড় নিলাম অনুষ্ঠিত ঈশ্বরদীতে র‌্যাবের অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার- ১ ঈশ্বরদীতে অপপ্রচারের অভিযোগে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ঈশ্বরদীতে শতাধিক মৌচাষীর অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গণতন্ত্র ও স্বাধিকার আন্দোলনের আপসহীন কণ্ঠস্বর খোন্দকার দেলোয়ার: স্বাধীনতা পদকই হোক যোগ্য সম্মান” দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়াতে ঈশ্বরদীতে ‘তারবিয়াতুল উম্মাহ্ নূরানী মাদরাসা উদ্বোধন হাড় ভাঙার শব্দ শোনার অপেক্ষায় তৃণমূল; অলিদ বিন সিদ্দিকের সমালোচনার ইতি টানার ঘোষণা

রাষ্ট্রপতির আর্শিবাদের হাত ‘ধার করে’ মেডিকেলে ভর্তি হওয়া আসিবুরের মাথায় : স্বস্তিতে পরিবার

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:১০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৩৩১ বার পড়া হয়েছে

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আর্শিবাদের হাত ধার করে মেডিকেলে ভর্তি হওয়া আসিবুরের মাথায়। এতে স্বস্তি বিরাজ করছে আসিবুরের পরিবারে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়া পাবনার বেড়া উপজেলার অদম্য মেধাবী আসিবুর রহমানের পাশে দাঁড়িয়েছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর নির্দেশে ‘পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’ আসিবুরের মেডিকেল কলেজে পড়ার সব খরচ বহন করবে। রাষ্ট্রপতি এই সংগঠনটির আজীবন সভাপতি পদে রয়েছেন। বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোরশেদুল ইসলাম মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রæয়ারি) আসিবুরকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে এনে খুশির এই সংবাদটি দেন। একই সঙ্গে তিনি (ইউএনও) উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আসিবুরকে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন।

দরিদ্র দিনমজুরের ছেলে অদম্য মেধাবী আসিবুর রহমানকে নিয়ে গণমাধ্যমে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে পড়ার খরচ নিয়ে চিন্তায় আসিবুর এ ধরণের প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্র্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ‘শিক্ষার্থী সহযোগিতা সংগঠন’ নামে বেড়ার একটি শিক্ষার্থী সংগঠন প্রতিবেদনটি পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সাধানরণ সম্পাদক সাবেক রেল সচিব ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার) সেলিম রেজার দৃষ্টিগোচরে আনে। এতে তিনি বিষয়টি ফাউন্ডেশনের আজীবন সভাপতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অবগত করেন। রাষ্ট্রপতি ফাউন্ডেশনকে ওই শিক্ষার্থীর মেডিকেল কলেজে পড়ার যাবতীয় খরচ বহনের পাশাপাশি তাঁর পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন।
পাবনা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সচিব সেলিম রেজা বার্তা সংস্থা পিপ‘কে জানান, তিনি রাষ্ট্রপতিকে মেধাবী আসিবুরের বিষয়টি অবগত করেন। এতে রাষ্ট্রপতি তাঁর (আসিবুরের) মেডিকেলে পড়ার যাবতীয় ব্যয়ভার ফাউন্ডেশনকে নিতে বলেন। এখন থেকে পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন আসিবুরের মেডিকেল পড়ার যাবতীয় খরচ বহন করবে। বেড়ার ইউএনও মোরশেদুল ইসলাম বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি মেধাবী আসিবুরের মেডিকেলে পড়ার করচ বহন করার জন্য পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেলিম রেজা স্যার বিষয়টি আমাকে মুঠোফোনে জানিয়ে এ খবরটি আসিবুরকে দিতে বলেন। এ জন্য মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রæয়ারি আসিবুরকে ডেকে এনে বিষয়টি জানিয়েছি। একই সঙ্গে তাঁর পড়াশোনার প্রাথমিক খরচ বাবদ উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।’
আসিবুরের বাবা বাছেদ মোল্লা অশ্রæসিক্ত কন্ঠে বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, ‘ছেলের পড়াশোনার খবর নিয়্যা চিন্তায় অস্থির হয়া ছিলাম। এমন সময়ে খবর পাইল্যাম মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমার ছেলের পড়াশোনার দায়িত্ব নিছেন। এই আনন্দ আমি ভাষায় প্রকাশ করব্যার পারতেছি না।’
আসিবুর এনটিভি বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, ‘আমি এখন থেকে নিশ্চিন্ত মনে পড়াশোনা করতে পারবো। চিকিৎসক হয়ে আমি দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।’
আসিবুর আরও বলেন, ‘বাবা খুব কষ্ট করে আমাদের পড়াশোনা করাচ্ছেন। আমি পড়াশোনায় ভালো দেখে বাবা কখনো আমাকে অন্য কোনো কাজ করতে দেননি। আগে বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতাম। সেই খরচ যোগাতেই বাবার কষ্ট হত। এখন তো সেই ম্যালা দূর রাজশাহী গিয়ে পড়ালেখা করতে হবে। মাসে নাকি কম করে হলেও আট-নয় হাজার টাকা খরচ লাগবে। এত টাকা বাবা কোথা থেকে যোগাড় করবেন সেই চিন্তায় মনটা খারাপ হয়ে থাকে।’
আলহেরা একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাকিমুল কবির বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, ‘আসিবুর খুবই মেধাবী। যতটুকু পেরেছি ওর জন্য আমরা সহায়তা করেছি। প্রতিক‚ল পরিস্থিতিতেও ও মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। ওর জন্য আমরা গর্বিত।’
উল্লেখ্য আসিবুর রহমান বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর বাছেদ মোল্লার বড় ছেলে। চরম অভাবের মধ্যেও তিনি এবারের মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় ৭৬.২৫ পেয়ে (মেধাতালিকায় এক হাজার ৩৬তম) রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছেন। গ্রামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার নিয়ে তাঁর বাবা তাঁকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করেন। কিন্তু পড়ালেখার খরচ কীভাবে যোগাড় হবে তা নিয়ে তাঁরা ছিলেন দুশ্চিন্তায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাষ্ট্রপতির আর্শিবাদের হাত ‘ধার করে’ মেডিকেলে ভর্তি হওয়া আসিবুরের মাথায় : স্বস্তিতে পরিবার

আপডেট সময় : ১১:১০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আর্শিবাদের হাত ধার করে মেডিকেলে ভর্তি হওয়া আসিবুরের মাথায়। এতে স্বস্তি বিরাজ করছে আসিবুরের পরিবারে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়া পাবনার বেড়া উপজেলার অদম্য মেধাবী আসিবুর রহমানের পাশে দাঁড়িয়েছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর নির্দেশে ‘পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’ আসিবুরের মেডিকেল কলেজে পড়ার সব খরচ বহন করবে। রাষ্ট্রপতি এই সংগঠনটির আজীবন সভাপতি পদে রয়েছেন। বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোরশেদুল ইসলাম মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রæয়ারি) আসিবুরকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে এনে খুশির এই সংবাদটি দেন। একই সঙ্গে তিনি (ইউএনও) উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আসিবুরকে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন।

দরিদ্র দিনমজুরের ছেলে অদম্য মেধাবী আসিবুর রহমানকে নিয়ে গণমাধ্যমে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে পড়ার খরচ নিয়ে চিন্তায় আসিবুর এ ধরণের প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্র্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ‘শিক্ষার্থী সহযোগিতা সংগঠন’ নামে বেড়ার একটি শিক্ষার্থী সংগঠন প্রতিবেদনটি পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সাধানরণ সম্পাদক সাবেক রেল সচিব ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার) সেলিম রেজার দৃষ্টিগোচরে আনে। এতে তিনি বিষয়টি ফাউন্ডেশনের আজীবন সভাপতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অবগত করেন। রাষ্ট্রপতি ফাউন্ডেশনকে ওই শিক্ষার্থীর মেডিকেল কলেজে পড়ার যাবতীয় খরচ বহনের পাশাপাশি তাঁর পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন।
পাবনা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সচিব সেলিম রেজা বার্তা সংস্থা পিপ‘কে জানান, তিনি রাষ্ট্রপতিকে মেধাবী আসিবুরের বিষয়টি অবগত করেন। এতে রাষ্ট্রপতি তাঁর (আসিবুরের) মেডিকেলে পড়ার যাবতীয় ব্যয়ভার ফাউন্ডেশনকে নিতে বলেন। এখন থেকে পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন আসিবুরের মেডিকেল পড়ার যাবতীয় খরচ বহন করবে। বেড়ার ইউএনও মোরশেদুল ইসলাম বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি মেধাবী আসিবুরের মেডিকেলে পড়ার করচ বহন করার জন্য পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেলিম রেজা স্যার বিষয়টি আমাকে মুঠোফোনে জানিয়ে এ খবরটি আসিবুরকে দিতে বলেন। এ জন্য মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রæয়ারি আসিবুরকে ডেকে এনে বিষয়টি জানিয়েছি। একই সঙ্গে তাঁর পড়াশোনার প্রাথমিক খরচ বাবদ উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।’
আসিবুরের বাবা বাছেদ মোল্লা অশ্রæসিক্ত কন্ঠে বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, ‘ছেলের পড়াশোনার খবর নিয়্যা চিন্তায় অস্থির হয়া ছিলাম। এমন সময়ে খবর পাইল্যাম মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমার ছেলের পড়াশোনার দায়িত্ব নিছেন। এই আনন্দ আমি ভাষায় প্রকাশ করব্যার পারতেছি না।’
আসিবুর এনটিভি বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, ‘আমি এখন থেকে নিশ্চিন্ত মনে পড়াশোনা করতে পারবো। চিকিৎসক হয়ে আমি দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।’
আসিবুর আরও বলেন, ‘বাবা খুব কষ্ট করে আমাদের পড়াশোনা করাচ্ছেন। আমি পড়াশোনায় ভালো দেখে বাবা কখনো আমাকে অন্য কোনো কাজ করতে দেননি। আগে বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতাম। সেই খরচ যোগাতেই বাবার কষ্ট হত। এখন তো সেই ম্যালা দূর রাজশাহী গিয়ে পড়ালেখা করতে হবে। মাসে নাকি কম করে হলেও আট-নয় হাজার টাকা খরচ লাগবে। এত টাকা বাবা কোথা থেকে যোগাড় করবেন সেই চিন্তায় মনটা খারাপ হয়ে থাকে।’
আলহেরা একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাকিমুল কবির বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, ‘আসিবুর খুবই মেধাবী। যতটুকু পেরেছি ওর জন্য আমরা সহায়তা করেছি। প্রতিক‚ল পরিস্থিতিতেও ও মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। ওর জন্য আমরা গর্বিত।’
উল্লেখ্য আসিবুর রহমান বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর বাছেদ মোল্লার বড় ছেলে। চরম অভাবের মধ্যেও তিনি এবারের মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় ৭৬.২৫ পেয়ে (মেধাতালিকায় এক হাজার ৩৬তম) রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছেন। গ্রামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার নিয়ে তাঁর বাবা তাঁকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করেন। কিন্তু পড়ালেখার খরচ কীভাবে যোগাড় হবে তা নিয়ে তাঁরা ছিলেন দুশ্চিন্তায়।