ঢাকা ১২:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাবনায় হাঁটের ইজারা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ নওগাঁর মান্দায় সড়ক উন্নয়ন কাজে বাধা’ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে সমাধান সরকারি জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ’ রাস্তাবিহীন মানবেতর জীবনযাপন ঈশ্বরদীতে মুলাডুলি প্রিমিয়ার লীগ সিজন-৩ এর খেলোয়াড় নিলাম অনুষ্ঠিত ঈশ্বরদীতে র‌্যাবের অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার- ১ ঈশ্বরদীতে অপপ্রচারের অভিযোগে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ঈশ্বরদীতে শতাধিক মৌচাষীর অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গণতন্ত্র ও স্বাধিকার আন্দোলনের আপসহীন কণ্ঠস্বর খোন্দকার দেলোয়ার: স্বাধীনতা পদকই হোক যোগ্য সম্মান” দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়াতে ঈশ্বরদীতে ‘তারবিয়াতুল উম্মাহ্ নূরানী মাদরাসা উদ্বোধন হাড় ভাঙার শব্দ শোনার অপেক্ষায় তৃণমূল; অলিদ বিন সিদ্দিকের সমালোচনার ইতি টানার ঘোষণা

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ইউনিটে আগুনের পর চরম দুর্ভোগে ব্যবসায়ীরা সরকারি রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা, দ্রুত সমাধানের দাবি

মোঃ বিপ্লব চৌধুরী ঃ বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫ ১০৬ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ইউনিটে সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে দেশের ব্যবসায়ীরা এখন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কার্গো টার্মিনালে স্থান সংকুলান না হওয়ায় পণ্য উঠানো-নামানো ও ডেলিভারি প্রক্রিয়া ভেঙে পড়েছে।

ঘটনার পর কার্গো ইউনিটের একটি বড় অংশ অচল হয়ে পড়ায় মালামাল সংরক্ষণ ও বিতরণে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। ব্যবসায়ীরা জানান, আগুনের পর থেকে নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় তাদের আমদানি করা পণ্য দীর্ঘ সময় ধরে বিমানবন্দরে পড়ে থাকছে। এতে অতিরিক্ত গুদাম খরচ, পরিবহন জটিলতা ও সময় অপচয়ে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

একজন আমদানিকারক ব্যবসায়ী বলেন, “আগে নির্দিষ্ট সময়ে আমরা মালামাল ডেলিভারি নিতে পারতাম। এখন জায়গার অভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কখনো পুরো দিনও চলে যায়। এতে আমাদের ব্যবসায়িক চেইন পুরোপুরি ভেঙে গেছে।”

আরেকজন রপ্তানিকারক জানান, “কার্গো ইউনিটে জায়গা না থাকায় পণ্য উঠানো-নামানো সম্ভব হচ্ছে না। বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারায় সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাছাড়া সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।”

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) প্রতি ব্যবসায়ীরা আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে কার্যক্রম সচল করার। নতুবা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে আরও বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিতে পারে।

একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এমনিতেই আমরা ডলারের সংকট, উচ্চ শুল্ক আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে আছি। তার মধ্যে এই কার্গো ইউনিটের সংকট আমাদের দম বন্ধ করে দিচ্ছে। সরকার যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেয়, রাজস্ব ক্ষতি এবং ব্যবসায়িক আস্থার সংকট দুই-ই বাড়বে।”

জানা গেছে, গত সপ্তাহে আগুনে কার্গো ইউনিটের একটি অংশ পুড়ে যায়। তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনো কার্যকর পুনর্গঠনের উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা দ্রুত কার্গো ইউনিট পুনর্বিন্যাস ও নতুন স্থান বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা— সরকার দ্রুত উদ্যোগ নেবে, যাতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং দেশের রাজস্ব ও বাণিজ্য সুরক্ষিত থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ইউনিটে আগুনের পর চরম দুর্ভোগে ব্যবসায়ীরা সরকারি রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা, দ্রুত সমাধানের দাবি

আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ইউনিটে সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে দেশের ব্যবসায়ীরা এখন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কার্গো টার্মিনালে স্থান সংকুলান না হওয়ায় পণ্য উঠানো-নামানো ও ডেলিভারি প্রক্রিয়া ভেঙে পড়েছে।

ঘটনার পর কার্গো ইউনিটের একটি বড় অংশ অচল হয়ে পড়ায় মালামাল সংরক্ষণ ও বিতরণে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। ব্যবসায়ীরা জানান, আগুনের পর থেকে নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় তাদের আমদানি করা পণ্য দীর্ঘ সময় ধরে বিমানবন্দরে পড়ে থাকছে। এতে অতিরিক্ত গুদাম খরচ, পরিবহন জটিলতা ও সময় অপচয়ে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

একজন আমদানিকারক ব্যবসায়ী বলেন, “আগে নির্দিষ্ট সময়ে আমরা মালামাল ডেলিভারি নিতে পারতাম। এখন জায়গার অভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কখনো পুরো দিনও চলে যায়। এতে আমাদের ব্যবসায়িক চেইন পুরোপুরি ভেঙে গেছে।”

আরেকজন রপ্তানিকারক জানান, “কার্গো ইউনিটে জায়গা না থাকায় পণ্য উঠানো-নামানো সম্ভব হচ্ছে না। বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারায় সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাছাড়া সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।”

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) প্রতি ব্যবসায়ীরা আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে কার্যক্রম সচল করার। নতুবা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে আরও বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিতে পারে।

একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এমনিতেই আমরা ডলারের সংকট, উচ্চ শুল্ক আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে আছি। তার মধ্যে এই কার্গো ইউনিটের সংকট আমাদের দম বন্ধ করে দিচ্ছে। সরকার যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেয়, রাজস্ব ক্ষতি এবং ব্যবসায়িক আস্থার সংকট দুই-ই বাড়বে।”

জানা গেছে, গত সপ্তাহে আগুনে কার্গো ইউনিটের একটি অংশ পুড়ে যায়। তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনো কার্যকর পুনর্গঠনের উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা দ্রুত কার্গো ইউনিট পুনর্বিন্যাস ও নতুন স্থান বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা— সরকার দ্রুত উদ্যোগ নেবে, যাতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং দেশের রাজস্ব ও বাণিজ্য সুরক্ষিত থাকে।