ঢাকা ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাবনায় হাঁটের ইজারা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ নওগাঁর মান্দায় সড়ক উন্নয়ন কাজে বাধা’ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে সমাধান সরকারি জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ’ রাস্তাবিহীন মানবেতর জীবনযাপন ঈশ্বরদীতে মুলাডুলি প্রিমিয়ার লীগ সিজন-৩ এর খেলোয়াড় নিলাম অনুষ্ঠিত ঈশ্বরদীতে র‌্যাবের অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার- ১ ঈশ্বরদীতে অপপ্রচারের অভিযোগে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ঈশ্বরদীতে শতাধিক মৌচাষীর অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গণতন্ত্র ও স্বাধিকার আন্দোলনের আপসহীন কণ্ঠস্বর খোন্দকার দেলোয়ার: স্বাধীনতা পদকই হোক যোগ্য সম্মান” দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়াতে ঈশ্বরদীতে ‘তারবিয়াতুল উম্মাহ্ নূরানী মাদরাসা উদ্বোধন হাড় ভাঙার শব্দ শোনার অপেক্ষায় তৃণমূল; অলিদ বিন সিদ্দিকের সমালোচনার ইতি টানার ঘোষণা

মালামাল বাহনের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ঘোড়ার গাড়ী

পাবনা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৫১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ৪৬৪ বার পড়া হয়েছে

পাবনার আটঘরিয়ায় জমি থেকে ধান,পাট, তিল, গমসহ বিভিন্ন পণ্যের বাহনের জন্য ঘোড়ার গাড়ী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের কৃষকরা কোন উপায় না পেয়ে জমি থেকে ধান, পাট,গম, কেটে ঘোড়ার গাড়ী দিয়ে বাড়ীতে আনছে। এলাকায় শ্রমিক সংকট থাকার কারনে এই ঘোড়ার গাড়ী একমাত্র বাহন। শুধু ধান বাহনের ক্ষেত্রে নয় উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকাতেই মানুষ পণ্যও পরিবহন করছে ।

উপজেলার বাসিন্দা নাজিমউদ্দীন জানান, অতীতে আমরা দেখেছি গরুর গাড়ী মহিষের গাড়ী দিয়ে এসব পরিবহন করতো। আর মানুষের বিয়েতে এই ঘোড়ার গাড়ী করে বর নিয়ে যাওয়া ছিল ঐতিহ্য। কিন্তু বর্তমানে এই ঘোড়ার গাড়ী কৃষি পণ্যসহ সকল ধরনের মালামাল বাহনের একমাত্র উপায়। তাই গরুর গাড়ী ,মহিষের গাড়ী কালের বিবর্তনে প্রায় বিলুপ্তির পথে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিলাঞ্চলের মানুষের মালামাল পরিবহনসহ ব্যবসায়ীদের পণ্য আনা নেওয়ার জন্য বর্তমানে একমাত্র মাধ্যম ঘোড়ার গাড়ি।

বিলাঞ্চলে উৎপাদিত ফসল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহৃত হচ্ছে। ছোট ছোট মোটরের টায়ারের চাকায় চলে এসব ঘোড়ার গাড়ি। এ অঞ্চলে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য অন্যান্য যানবাহনে কিছু কিছু জায়গা থেকে অনায়াসে চলতে পারলেও অনেক স্থানে যাতায়াতের অবস্থা ভাল না থাকায় ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তাই ঘোড়ার গাড়ীর চাহিদাও আছে। এ ঘোড়ার গাড়িতে ৩০০ থেকে ৫০০ ধানের আটি পরিবহন করা যায়।

ঘোড়ার গাড়ি চালকরা জানান, সাধারণত মাইক্রোবাসের পুরনো চাকা দিয়ে ঘোড়ার গাড়ি তৈরি করেন তারা। প্রতিটি গাড়ি তৈরি করতে খরচ পড়ে ১৫-১৭ হাজার টাকা। একটি ঘোড়া কিনতে লাগে আরও ৩০-৩৫ হাজার টাকা। সারাদিনে আয় হয় ১৫০০-২০০০ টাকা । তা দিয়ে সংসারের খরচ বহন করেন তারা।

ঘোড়ার মালিক আব্দুস সালাম বলেন, আমার ঘোড়াকে প্রতিদিন ছুলার বুট, ভূষি,চাউলের কুড়া, পর্যাপ্ত পরিমান সবুজ ঘাস খাওয়াই। সেই কারনেই আমার ঘোড়া সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত কাজ করতে পারে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মালামাল বাহনের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ঘোড়ার গাড়ী

আপডেট সময় : ১১:৫১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪

পাবনার আটঘরিয়ায় জমি থেকে ধান,পাট, তিল, গমসহ বিভিন্ন পণ্যের বাহনের জন্য ঘোড়ার গাড়ী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের কৃষকরা কোন উপায় না পেয়ে জমি থেকে ধান, পাট,গম, কেটে ঘোড়ার গাড়ী দিয়ে বাড়ীতে আনছে। এলাকায় শ্রমিক সংকট থাকার কারনে এই ঘোড়ার গাড়ী একমাত্র বাহন। শুধু ধান বাহনের ক্ষেত্রে নয় উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকাতেই মানুষ পণ্যও পরিবহন করছে ।

উপজেলার বাসিন্দা নাজিমউদ্দীন জানান, অতীতে আমরা দেখেছি গরুর গাড়ী মহিষের গাড়ী দিয়ে এসব পরিবহন করতো। আর মানুষের বিয়েতে এই ঘোড়ার গাড়ী করে বর নিয়ে যাওয়া ছিল ঐতিহ্য। কিন্তু বর্তমানে এই ঘোড়ার গাড়ী কৃষি পণ্যসহ সকল ধরনের মালামাল বাহনের একমাত্র উপায়। তাই গরুর গাড়ী ,মহিষের গাড়ী কালের বিবর্তনে প্রায় বিলুপ্তির পথে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিলাঞ্চলের মানুষের মালামাল পরিবহনসহ ব্যবসায়ীদের পণ্য আনা নেওয়ার জন্য বর্তমানে একমাত্র মাধ্যম ঘোড়ার গাড়ি।

বিলাঞ্চলে উৎপাদিত ফসল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহৃত হচ্ছে। ছোট ছোট মোটরের টায়ারের চাকায় চলে এসব ঘোড়ার গাড়ি। এ অঞ্চলে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য অন্যান্য যানবাহনে কিছু কিছু জায়গা থেকে অনায়াসে চলতে পারলেও অনেক স্থানে যাতায়াতের অবস্থা ভাল না থাকায় ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তাই ঘোড়ার গাড়ীর চাহিদাও আছে। এ ঘোড়ার গাড়িতে ৩০০ থেকে ৫০০ ধানের আটি পরিবহন করা যায়।

ঘোড়ার গাড়ি চালকরা জানান, সাধারণত মাইক্রোবাসের পুরনো চাকা দিয়ে ঘোড়ার গাড়ি তৈরি করেন তারা। প্রতিটি গাড়ি তৈরি করতে খরচ পড়ে ১৫-১৭ হাজার টাকা। একটি ঘোড়া কিনতে লাগে আরও ৩০-৩৫ হাজার টাকা। সারাদিনে আয় হয় ১৫০০-২০০০ টাকা । তা দিয়ে সংসারের খরচ বহন করেন তারা।

ঘোড়ার মালিক আব্দুস সালাম বলেন, আমার ঘোড়াকে প্রতিদিন ছুলার বুট, ভূষি,চাউলের কুড়া, পর্যাপ্ত পরিমান সবুজ ঘাস খাওয়াই। সেই কারনেই আমার ঘোড়া সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত কাজ করতে পারে।